Version:1.0 StartHTML:0000000156 EndHTML:0000358701 StartFragment:0000000469 EndFragment:0000358693
বাংলাদেশের শিল্প ও বাণিজ্যের আকাশে যে কজন উদ্যোক্তা নিজেদের কর্ম, দূরদর্শিতা এবং নেতৃত্বের মাধ্যমে অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছেন, তাদের মধ্যে অন্যতম আহসান খান চৌধুরী। তিনি শুধু একটি শিল্পগোষ্ঠীর সফল কর্ণধার নন; তিনি লাখো মানুষের স্বপ্নের নির্মাতা, হাজারো কৃষকের আস্থার প্রতীক এবং বিশ্বমঞ্চে বাংলাদেশের সক্ষমতার এক উজ্জ্বল দূত। তাঁর হাত ধরেই বাংলাদেশের তৈরি পণ্য আজ বিশ্বের ১৪০টিরও বেশি দেশে পৌঁছে গেছে, যেখানে ‘PRAN’ নামটি এখন বাংলাদেশের গর্বের প্রতীক।
এই সাফল্যের পেছনে রয়েছে এক মহান পিতার স্বপ্ন এবং এক তরুণের অসীম নিষ্ঠা। ১৯৮১ সালে কিংবদন্তি উদ্যোক্তা আমজাদ খান চৌধুরী প্রতিষ্ঠা করেন প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। তাঁর স্বপ্ন ছিল ব্যবসার মাধ্যমে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং দেশের মানুষের জন্য অর্থনৈতিক আত্মমর্যাদা নিশ্চিত করা। সেই স্বপ্নের উত্তরাধিকারী হয়ে ১৯৯২ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ওর্টবার্গ কলেজ থেকে উচ্চশিক্ষা শেষে দেশে ফিরে আসেন আহসান খান চৌধুরী। বিদেশে উজ্জ্বল ভবিষ্যতের সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি নিজের দেশকেই বেছে নেন। তবে তাঁর যাত্রা শুরু হয়নি কোনো বিলাসবহুল কার্যালয় থেকে। বাবার নির্দেশনায় তিনি মাঠপর্যায়ে সাধারণ কর্মীদের সঙ্গে কাজ করেছেন, গ্রাম থেকে গ্রামান্তরে ঘুরে বিক্রয় ও বিপণনের বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। এই অভিজ্ঞতাই তাঁকে মানুষের প্রয়োজন, বাজারের চাহিদা এবং ব্যবসার প্রকৃত দর্শন শিখিয়েছে।
আহসান খান চৌধুরীর বিশ্বাস, “কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে।” এই বিশ্বাস থেকেই তিনি দেশের প্রান্তিক কৃষকদের জন্য গড়ে তুলেছেন চুক্তিভিত্তিক কৃষির একটি সফল মডেল। আম, সবজি, চাল কিংবা দুগ্ধজাত পণ্য প্রতিটি ক্ষেত্রে কৃষকদের উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করে তিনি লাখো পরিবারে সচ্ছলতার আলো পৌঁছে দিয়েছেন। ২০১৫ সালে পিতার মৃত্যু তাঁর জীবনে এক গভীর শূন্যতা তৈরি করে। কিন্তু তিনি থেমে যাননি। ২০১৬ সালে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চেয়ারম্যান ও সিইও হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করে তিনি সাহস, প্রজ্ঞা এবং দূরদর্শিতার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটিকে আরও বিস্তৃত করেন। আজ এই শিল্পগোষ্ঠী এক লক্ষেরও বেশি মানুষের প্রত্যক্ষ কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশের অন্যতম বৃহৎ নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। টেক্সাস থেকে টোকিও, মধ্যপ্রাচ্য থেকে আফ্রিকা বিশ্বের নানা প্রান্তের সুপারশপে আজ গর্বের সঙ্গে শোভা পাচ্ছে ‘PRAN’-এর লোগো। তিনি প্রমাণ করেছেন, সঠিক নেতৃত্ব, উদ্ভাবনী চিন্তা এবং অদম্য পরিশ্রম থাকলে বাংলাদেশও বিশ্ববাণিজ্যে নেতৃত্ব দিতে পারে।
অগাধ সাফল্যের শিখরে অবস্থান করেও আহসান খান চৌধুরী আজও একজন বিনয়ী, সদালাপী এবং মাটির মানুষ। তিনি নিজেকে একজন বড় ব্যবসায়ী নয়, বরং একজন ‘সেলসম্যান’ হিসেবেই পরিচয় দিতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন। তাঁর দর্শন, “ভোক্তারাই আমাদের রাজা, আর আমরা তাদের সেবক।” এই দর্শন, মানবিকতা এবং দেশপ্রেমই তাঁকে একজন সফল শিল্পপতি থেকে কোটি মানুষের অনুপ্রেরণার প্রতীকে পরিণত করেছে। তিনি সত্যিই মাটি থেকে উঠে মহাকাশ ছোঁয়ার এক অসাধারণ স্বপ্নযাত্রার নাম।