Version:1.0 StartHTML:0000000156 EndHTML:0000301353 StartFragment:0000000469 EndFragment:0000301345
বাংলাদেশের শিল্পায়নের ইতিহাসে কিছু নাম চিরকাল স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। তাদের মধ্যে অন্যতম হলেন এম এ হাসেম। তিনি শুধু একজন সফল ব্যবসায়ী ছিলেন না; তিনি ছিলেন স্বপ্নদ্রষ্টা, কর্মসংস্থানের স্রষ্টা এবং দেশের শিল্প বিপ্লবের অন্যতম অগ্রদূত। সীমিত সামর্থ্য, কঠিন সংগ্রাম এবং অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে তিনি গড়ে তুলেছিলেন দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠী Partex Group।
১৯৪১ সালে নোয়াখালীর এক সাধারণ পরিবারে জন্ম নেওয়া এম এ হাসেমের জীবন ছিল সংগ্রামের এক অনন্য উপাখ্যান। ব্যবসার জগতে তাঁর যাত্রা শুরু হয় ১৯৬২ সালে তামাক ব্যবসার মাধ্যমে। ক্ষুদ্র পরিসরে শুরু হলেও তাঁর স্বপ্ন ছিল বিশাল। স্বাধীনতার পর তিনি চট্টগ্রামে চলে আসেন এবং আমদানি-রপ্তানি ও বিভিন্ন পণ্যের পরিবেশনা ব্যবসায় যুক্ত হন। কিন্তু তিনি কেবল ব্যবসায়ী হতে চাননি; তিনি হতে চেয়েছিলেন একজন শিল্পোদ্যোক্তা, যিনি দেশের জন্য নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলে দেবেন। এই স্বপ্ন থেকেই আশির দশকে প্রতিষ্ঠিত হয় পারটেক্স গ্রুপ। তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বে প্রতিষ্ঠানটি কণা বোর্ড, ফার্নিচার, প্লাস্টিক, কাগজ, তুলা, সুতা, পাট, রিয়েল এস্টেট, স্টিল, শিপিং ও এভিয়েশনসহ বহু খাতে বিস্তার লাভ করে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্পগোষ্ঠীতে পরিণত হয়। বাংলাদেশের কোটি মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে তাঁর প্রতিষ্ঠিত একাধিক জনপ্রিয় ব্র্যান্ড। ‘পারটেক্স বোর্ড ও ফার্নিচার’ ঘর ও অফিসের আস্থার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। ‘ড্যানিশ’ খাদ্যপণ্যের বাজারে নতুন মাত্রা যোগ করেছে, আর ‘মাম মিনারেল ওয়াটার’ বিশুদ্ধ পানির বাজারে একটি নির্ভরযোগ্য নাম হয়ে উঠেছে।
উৎপাদন খাতের পাশাপাশি দেশের আর্থিক খাতের বিকাশেও তাঁর অবদান অনন্য। তিনি United Commercial Bank PLC এবং The City Bank PLC-এর অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা উদ্যোক্তা ছিলেন। এছাড়া ২০০১ সালে তিনি নোয়াখালী-২ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে জাতীয় নেতৃত্বেও ভূমিকা রাখেন। ২০২০ সালের ২৪ ডিসেম্বর এই মহান শিল্পনায়ক পৃথিবীর মায়া ত্যাগ করেন। কিন্তু তাঁর স্বপ্ন, কর্ম এবং আদর্শ আজও বেঁচে আছে। তাঁর পাঁচ সন্তান অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে পারটেক্স গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান পরিচালনা করে তাঁর লিগ্যাসিকে সামনে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন।
এম এ হাসেমের জীবন আমাদের শেখায়সাফল্যের জন্য জন্মগত সুবিধা নয়, প্রয়োজন অদম্য পরিশ্রম, সততা, সাহস এবং দূরদর্শিতা। শূন্য থেকে শুরু করে তিনি যে শিল্পসাম্রাজ্য গড়ে গেছেন, তা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের গল্প নয়; এটি বাংলাদেশের শিল্পায়নের এক মহাকাব্য, যা আগামী প্রজন্মকে যুগ যুগ ধরে অনুপ্রাণিত করবে।