Thursday, 28 May 2026
Thursday, 28 May 2026
ফলো করুন :
🌐 ভাষা
Award Banner
শূন্য থেকে শীর্ষে: এক অনন্য জীবনগাথা | বিজনেস মেট্রো

শূন্য থেকে শীর্ষে: এক অনন্য জীবনগাথা

Version:1.0 StartHTML:0000000156 EndHTML:0000405290 StartFragment:0000000469 EndFragment:0000405282

সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমান বাংলাদেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পগোষ্ঠী পিএইচপি ফ্যামিলির প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান। সহজ-সরল, বিনয়ী, মিষ্টভাষী এবং অত্যন্ত মিশুক এই মানুষটি ব্যবসায়িক জগতে সফলতার এক জীবন্ত কিংবদন্তি। কেউ তাকে ডাকেন সুফি সাহেব, কেউ মিজান সাহেব। কিন্তু তার জীবনের আসল পরিচয় হলো সংগ্রাম, সততা এবং মানবিকতার এক অনন্য প্রতিচ্ছবি।তার জীবন শুরু হয়েছিল এক কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে। ছোটবেলাতেই তিনি মাকে হারান। বাবার কঠোর শাসন ও নিঃস্বার্থ ভালোবাসার ছায়ায় তিনি বড় হন। বাবা নিজে হাতে তাকে গোসল করানো থেকে শুরু করে স্কুলে নিয়ে যাওয়া সবকিছুই করেছেন। তিনি বলেন, বাবাই ছিলেন তার জীবনের প্রথম শিক্ষক এবং সবচেয়ে বড় প্রেরণা। 

শৈশবের একটি ঘটনা আজও তার জীবনের নৈতিক ভিত্তি হয়ে আছে। স্কুলজীবনে বন্ধুদের সঙ্গে লেবু চুরির ঘটনা বাবা জানতে পারলে তিনি কঠোর শাসন করেন এবং চুরি করা লেবু ফেরত দিতে বলেন। সেই দিন তিনি শিখেছিলেন সততা ও নৈতিকতার আসল অর্থ, যা আজও তার ব্যবসায়িক জীবনের মূলনীতি।শিক্ষাজীবন ছিল তার জন্য সহজ নয়। কলেজে পড়ার পাশাপাশি তিনি চাকরি করতেন, রাত ১১টা পর্যন্ত ক্লাস করতেন এবং ভোরে আবার কাজে যেতেন। ৪ মাইল হেঁটে বাড়ি ফেরা, নিজে রান্না করা এভাবেই কেটেছে তার সংগ্রামের দিনগুলো। তবুও তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন। 

১৯৬৫ সালে মাত্র ১০০ টাকা বেতনে ব্যাংকে চাকরি দিয়ে তার কর্মজীবন শুরু। পরবর্তীতে ব্যাংকিং অভিজ্ঞতা তাকে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের জগতে দক্ষ করে তোলে। স্বাধীনতার পর মাত্র ১,৪৮৩ টাকা পুঁজি নিয়ে তিনি ব্যবসা শুরু করেন। শুরুতে জাপানসহ বিভিন্ন দেশ থেকে টায়ার, টিউব, সুতা, স্পেয়ার পার্টস আমদানি করতেন। ধীরে ধীরে তিনি ম্যানুফ্যাকচারিংয়ে প্রবেশ করেন এবং গড়ে তোলেন পিএইচপি ফ্যামিলি। 

আজ পিএইচপি ফ্যামিলির অধীনে রয়েছে প্রায় ৩০টির বেশি প্রতিষ্ঠান, যেখানে স্টিল, গ্লাস, অ্যালুমিনিয়াম, টেক্সটাইল, শিপ রিসাইক্লিংসহ বহু খাত জড়িত। তিনি বিশ্বাস করেন, এটি কোনো গ্রুপ নয়, বরং একটি পরিবার যেখানে সুইপার থেকে চেয়ারম্যান সবাই সমান।তার জীবনদর্শনের মূল কথা হলো—“Divine blessings mixed with hard work and good intention creates miracle।” তিনি বিশ্বাস করেন সততা, পরিশ্রম ও মানবকল্যাণই সফলতার চাবিকাঠি। ব্যক্তিজীবনে তিনি অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করেন। বিলাসিতা তাকে টানে না। ডাল-ভাত, আলু ভর্তা ও ডিম ভাজি তার প্রিয় খাবার। পরিবারে স্ত্রী ও আট সন্তান রয়েছে। তিনি বলেন, প্রতিদিন সকালে তিনি আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং জীবনের উদ্দেশ্য নিয়ে ভাবেন।নারীদের প্রতি সম্মান, নৈতিকতা এবং মানবিক মূল্যবোধ তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা। তিনি মনে করেন, প্রতিটি নারীকে যথাযথ সম্মান দিলে সমাজে কোনো অনৈতিকতা থাকে না। তার মতে, বাংলাদেশ সম্ভাবনায় ভরপুর একটি দেশ। সঠিক সুযোগ ও পরিবেশ পেলে এ দেশ বিশ্ব অর্থনীতিতে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারবে। নতুন প্রজন্মের উদ্যোক্তাদের তিনি বলেন যে কাজই করো, মন দিয়ে করো। বড় স্বপ্ন দেখো এবং কঠোর পরিশ্রম করো। সফলতা তখনই আসবে, যখন তুমি বর্তমান কাজকেই জীবনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে গ্রহণ করবে। সুফি মোহাম্মদ মিজানুর রহমানের জীবন তাই শুধু একজন শিল্পপতির গল্প নয়, বরং একজন মানুষের সততা, সংগ্রাম, বিশ্বাস ও মানবিকতার এক অনন্য অনুপ্রেরণামূলক ইতিহাস।