Version:1.0 StartHTML:0000000156 EndHTML:0000401811 StartFragment:0000000469 EndFragment:0000401803
দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের কার শেড ও ইয়ার্ডগুলোতে বছরের পর বছর ধরে স্তূপ হয়ে পড়ে আছে শত শত কন্টেইনার এবং কোটি কোটি টাকা মূল্যের বিলাসবহুল গাড়ি। চট্টগ্রাম কাস্টমসের সময়মতো নিলাম কার্যক্রম সম্পন্ন করতে না পারার দীর্ঘসূত্রতায় এসব জাতীয় সম্পদ রোদ-বৃষ্টিতে ভিজে ধূলিসাৎ ও ধ্বংস হচ্ছে। অন্যদিকে বন্দর কর্তৃপক্ষ তীব্র জায়গা সংকটে পড়ে তাদের স্বাভাবিক অপারেশনাল কার্যক্রম চালাতে হিমশিম খাচ্ছে।
শত শত গাড়ি ও হাজার হাজার কন্টেইনারের স্তূপ:
বন্দর ও কাস্টমস সূত্রের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দর ইয়ার্ডে বর্তমানে প্রায় ৮ থেকে ৯ হাজারেরও বেশি নিলামযোগ্য কন্টেইনার দীর্ঘদিন ধরে অখালাসকৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে, যা বন্দরের মোট ধারণক্ষমতার প্রায় ১৮ শতাংশ জায়গা দখল করে আছে। এছাড়া কার শেডে ধুঁকছে শত কোটি টাকার বহু বিলাসবহুল গাড়ি। বিশেষ করে, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা ৩১টি দামি ল্যান্ডক্রুজারসহ প্রায় ৪৪টির বেশি বিলাসবহুল গাড়ি খালাস না করায় কার শেডেই অবহেলায় পড়ে রয়েছে।
নিলামে কেন এই স্থবিরতা ও আইনি জটিলতা?
কাস্টমস আইন অনুযায়ী, কোনো পণ্য জাহাজ থেকে নামার ৪৫ দিনের মধ্যে খালাস না নিলে তা নিলামে তোলার নিয়ম থাকলেও আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় তা বছরের পর বছর ঝুলে থাকে।
বাস্তবতাবর্জিত সংরক্ষিত মূল্য: কাস্টমস কর্তৃপক্ষ নিলামের সময় গাড়ির যে ভিত্তিমূল্য (Reserve Price) নির্ধারণ করে, তা অনেক ক্ষেত্রে বাজারের চেয়ে অবাস্তব রকমের বেশি হয়। যেমন সাবেক এমপিদের ল্যান্ডক্রুজারগুলোর ভিত্তিমূল্য ধরা হয়েছিল প্রতিটি প্রায় ৯ কোটি ৬৭ লাখ টাকা। কিন্তু নিলামে ক্রেতারা ১ থেকে ৫ লাখ টাকার মতো নামমাত্র দাম হাঁকায় কাস্টমস সেসব গাড়ি বিক্রি করতে পারেনি। আইন অনুযায়ী সংরক্ষিত মূল্যের কাছাকাছি বিড না এলে তা বিক্রি করা যায় না।
মামলার জট: অনেক আমদানিকারক শুল্ক ফাঁকি বা মিথ্যা ঘোষণার অভিযোগে জব্দ হওয়া কন্টেইনার বা গাড়ির বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে মামলা ঠুকে দেন। আদালতের স্থগিতাদেশের কারণে কাস্টমস চাইলেও বছরের পর বছর ধরে সেসব পণ্য স্পর্শ করতে পারে না।
বন্দর কর্তৃপক্ষের চরম জায়গা সংকট:
নিলামযোগ্য এই বিশাল কন্টেইনার ও গাড়ির স্তূপের কারণে সবচেয়ে বেশি ভুগছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। নতুন আমদানি করা মালামাল রাখার মতো পর্যাপ্ত জায়গা পাওয়া যাচ্ছে না। দীর্ঘদিন ধরে খোলা আকাশের নিচে পড়ে থাকায় দামি পণ্যগুলো পচে নষ্ট হচ্ছে এবং গাড়িগুলোতে মরচে ধরে সেগুলো স্ক্র্যাপ বা ভাঙাড়ি হিসেবে নামমাত্র মূল্যে বিক্রি করতে হচ্ছে, যা সরকারের বিপুল রাজস্ব ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ই-অকশন ও বর্তমান উদ্যোগ:
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং কন্টেইনার জট কমাতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (NBR) নির্দেশে সম্প্রতি কাস্টমস হাউস মে এবং জুন মাসে ই-অকশন বা অনলাইন নিলামের মাধ্যমে শতাধিক কন্টেইনার পণ্য বিক্রির বিশেষ উদ্যোগ নিয়েছে। তবে বন্দর সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, আমলাতান্ত্রিক মানসিকতার সংস্কার এবং নিলাম আইনের জটিল ধারাগুলো দ্রুত সংশোধন না করলে বন্দরের এই স্থায়ী জট ও মরচে ধরা সম্পদের অপচয় রোধ করা সম্ভব হবে না।